সামরিক আদান-প্রদানে ব্রাজিলের সাথে আরো মজবুত হচ্ছে ভারতের সম্পর্ক,যাবে এবার আমেরিকা!
এটি ৬ হাজার টনের নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন যা ফ্রান্সের স্করপিন ক্লাস সাবমেরিন এর একটি ভেরিয়েন্ট। আসলে স্করপিন সাবমেরিন এর ডিজাইনের উপর ভিত্তি করেই এই নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিনকে ডিজাইন করেছে ব্রাজিল। ভারত ও নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন বানাচ্ছে। ভারত ও ব্রাজিল দুই দেশেরই নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন ৬০০০ টনের।
যদিও ব্রাজিলের থেকে ভারতের নিউক্লিয়ার সাবমেরিন অনেক অনেক বেশি উন্নত। তার কারণ হলো ব্রাজিলের সাবমেরিন Álvaro Alberto মাত্র ৪৮ মেগাওয়াটের নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর দ্বারা চালিত। নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন সাধারণত নিজের এজিলিটির জন্য সব থেকে বেশি প্রসিদ্ধ। এদের কাজ হল পুরো ফ্লিটকে কভার করা এবং দ্রুত শত্রু দেশের জাহাজ ও সাবমেরিনকে ধুলিস্যাৎ করা। মূল কথা হলো এটি নৌ বাহিনীর পরিবারের সবথেকে শক্তিশালী ও প্রধান হিসেবে কাজ করে।
যেখানে ব্রাজিলের সাবমেরিন ৪৮ মেগাওয়াটের নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর দ্বারা চালিত সেখানে ভারতের যে ছটি প্রজেক্ট ৭৫ আলফা নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন তৈরি হচ্ছে সেগুলি ১৯০ মেগাওয়াটের শক্তিশালী নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্ট দ্বারা চালিত হবে। দুটি সাবমেরিন ই ৬০০০ টনের কিন্তু একটি ৪৮ মেগাওয়াট ইঞ্জিন আরেকটি ১৯০ মেগাওয়াটের ইঞ্জিন। এবার বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই যে ভারতীয় সাবমেরিন কত দ্রুত এক্সেলারেট করতে পারবে।
আসলে ব্রাজিল চাইছে ভারতের থেকে উন্নত প্রযুক্তি পেতে যাতে তারা নিজেদের প্রজেক্টগুলিকে আরো দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। বন্ধুদের হিসাবে আর ব্রাজিলের বর্তমান ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের জন্য যথেষ্ট ভালো। ক্ষেত্রে ভারত ব্রাজিলকে সাহায্য করতেই পারে। এমনিতেই ভারত ব্রাজিলের স্করপিন ফ্লিট গুলির জন্য স্পেয়ার পার্টস সাপ্লাই করার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। যার ফলে মাজাগাঁও ডক লিমিটেড ব্রাজিলকে তাদের স্করপিন সাবমেরিন গুলির জন্য মেইনটেনেন্স এর দায়িত্ব পালন করবে।
ব্রাজিল ভারতের থেকে বড় ধরনের যুদ্ধ জাহাজ নেওয়ারও পরিকল্পনা করছে। আর লিস্ট টা শুধু এখানেই শেষ হবে না, ব্রাজিল ভারতের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো জোরদার হবে এটি নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশের সাম্প্রতিকতম রাজনৈতিক পরিবর্তনে আমেরিকার ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না, অনেকে মনে করেন আমেরিকার অঙ্গুলি হেলোনে বাংলাদেশ ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনা।বর্তমান বিশ্বে সামরিক ও অর্থনৈতিক খাতে ভারতের গুরুত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে যা হজম করতে পারছে না আমেরিকার কূটনৈতিক মহল।
ভারত এবার সামরিক খাতে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ব্রাজিলের সাথে সম্পর্ক আরো মজবুত করতেই উদ্যোগী হয়েছে।